Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ গুলো জানেন কি
Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ সম্পর্কে আজকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে। অনলাইন বিজনেস শুরু করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ হলো সঠিকভাবে প্রোডাক্ট লিস্টিং তৈরি করা।
পেজ সূচিপত্রঃ Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ
- Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ
- প্রোডাক্ট টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম
- প্রোডাক্টের ছবি যুক্ত করার পদ্ধতি
- প্রোডাক্টের প্রাইসিং সেট করার নিয়ম
- ইনভেন্টরি ও স্টক ম্যানেজমেন্ট করার পদ্ধতি
- শিপিং তথ্য যুক্ত করার নিয়ম
- ভ্যারিয়েন্ট যোগ করার পদ্ধতি
- কালেকশন এবং ট্যাগ ব্যবহারের নিয়ম
- প্রোডাক্ট SEO অপটিমাইজ করার পদ্ধতি
- মোবাইল অ্যাপ দিয়ে প্রোডাক্ট যোগ করার নিয়ম
- CSV ফাইল দিয়ে একাধিক প্রোডাক্ট যোগ করার পদ্ধতি
- প্রোডাক্ট পাবলিশ করার আগে যা যাচাই করতে হবে
- সতর্কতা
- লেখকের মন্তব্য
Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ
Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ জানার আগে প্রথমে নিজের Shopify অ্যাডমিন প্যানেলে সঠিক ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর বাম পাশের মেনু থেকে Products অপশনে ক্লিক করতে হয়, এরপর Products পেজে গিয়ে উপরে ডানপাশে থাকা Add product বাটনে ক্লিক করলে নতুন প্রোডাক্ট তৈরির পেজ খুলে যায়। এই পেজেই প্রোডাক্টের যাবতীয় তথ্য পূরণ করতে হয়, যেমন টাইটেল, বিবরণ, ছবি, দাম, ইনভেন্টরি এবং শিপিং সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। পেজটা দেখতে প্রথম প্রথম একটু জটিল মনে হলেও প্রতিটা সেকশন আলাদা আলাদা ভাগে সাজানো থাকায় ধাপে ধাপে কাজ করলে সহজেই বোঝা সম্ভব।
প্রথমেই প্রোডাক্টের একটা স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় টাইটেল দিতে হয়, যা দেখলেই ক্রেতা বুঝতে পারবেন প্রোডাক্টটা আসলে কী এবং কেন এটা তার প্রয়োজন। টাইটেলের নিচেই ডেসক্রিপশন বক্স থাকে, যেখানে প্রোডাক্টের বিস্তারিত বর্ণনা লিখতে হয়। এরপর ধাপে ধাপে ছবি, দাম, ইনভেন্টরি এবং শিপিং তথ্য পূরণ করতে হয়, এবং সবগুলো সেকশন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করার পর Save বাটনে ক্লিক করলে প্রোডাক্টটা স্টোরে যুক্ত হয়ে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটা একবারে শেষ করার চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে এগোলে কোনো তথ্য বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আমি যখন প্রথমবার নিজের একটা স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করেছিলাম, তখন প্রথম দিকে অনেকটাই গুলিয়ে যেতাম কোন তথ্য কোথায় বসাতে হবে তা নিয়ে, কারণ একসাথে এত বেশি অপশন দেখে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিভ্রান্তি কাজ করত। কিন্তু কয়েকটা প্রোডাক্ট যোগ করার পর পুরো বিষয়টা হাতের তালুর মতো পরিষ্কার হয়ে যায় এবং তখন একটা প্রোডাক্ট যোগ করতে মাত্র কয়েক মিনিটই সময় লাগে। নতুনদের জন্য পরামর্শ থাকবে শুরুতে একটা প্রোডাক্ট দিয়ে পুরো প্রসেসটা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া, তারপর বাকি প্রোডাক্টগুলো একই পদ্ধতিতে ধৈর্য ধরে যোগ করা, কারণ তাড়াহুড়ো করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রোডাক্ট টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম
প্রোডাক্ট টাইটেল লেখার সময় খুব বেশি দীর্ঘ বা জটিল নাম এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ ক্রেতা সাধারণত খুব দ্রুত প্রোডাক্ট পেজ স্ক্যান করে দেখেন এবং জটিল নাম পড়তে গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। টাইটেল এমন হওয়া ভালো যা পড়েই ক্রেতা পণ্যটা চিনতে পারেন, যেমন কোনো প্রোডাক্ট যদি ব্লুটুথ ইয়ারবাড হয় তাহলে শুধু "ইয়ারবাড" না লিখে "ওয়্যারলেস ব্লুটুথ ইয়ারবাড" এর মতো নির্দিষ্ট ও বর্ণনামূলক নাম দেওয়া ভালো। যদি একাধিক প্রোডাক্টে রঙ বা সাইজ উল্লেখ করা হয়, তাহলে সব প্রোডাক্টেই একই নিয়ম মেনে চলা উচিত যাতে স্টোর দেখতে গোছানো ও পেশাদার লাগে, কারণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ নামকরণ ক্রেতার মনে অগোছালো ব্যবসার ছাপ তৈরি করতে পারে।
ডেসক্রিপশন লেখার সময় প্রোডাক্টের বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি এটা কীভাবে ক্রেতার সমস্যার সমাধান করবে বা জীবনযাত্রা সহজ করবে তা উল্লেখ করা জরুরি। শুধু টেকনিক্যাল ফিচার লিখলে ক্রেতা আবেগগতভাবে সংযুক্ত হন না, তাই ফিচারের পাশাপাশি বেনিফিট তুলে ধরাটা বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন কোনো ফ্লাস্কের ক্ষেত্রে শুধু "স্টেইনলেস স্টিল" বললে চলবে না, বরং "বারো ঘণ্টা গরম রাখে যাতে অফিসে গিয়েও গরম চা উপভোগ করতে পারেন" এই ধরনের বাস্তবিক উপকারিতা তুলে ধরলে ক্রেতা সহজে সংযুক্ত হন। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যেসব প্রোডাক্ট পেজে ছোট ছোট বুলেট পয়েন্টে সুবিধাগুলো তুলে ধরা থাকে এবং সাথে দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত উদাহরণ দেওয়া থাকে, সেগুলোতে কনভার্সন রেট তুলনামূলক অনেক বেশি হয়।
প্রোডাক্টের ছবি যুক্ত করার পদ্ধতি
প্রোডাক্ট পেজে নিচের দিকে স্ক্রল করলে Media সেকশন পাওয়া যায়, যেখানে Add file বাটনে ক্লিক করে বা ছবি সরাসরি ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে আপলোড করা যায়। প্রথম যে ছবিটা আপলোড করা হবে সেটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোডাক্টের মেইন ছবি হিসেবে সেট হয়ে যায়, যা স্টোরের হোমপেজ, কালেকশন পেজ এবং সার্চ রেজাল্টে দেখা যায়। তাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়, স্পষ্ট এবং ভালো আলোয় তোলা ছবিটা প্রথমে আপলোড করা উচিত, কারণ এই একটা ছবিই প্রথম দর্শনে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার দায়িত্ব নিয়ে থাকে।
একটা প্রোডাক্টে একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা ছবি যুক্ত করলে ক্রেতা প্রোডাক্টটা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারেন, যেমন সামনে থেকে, পেছন থেকে, এবং প্রোডাক্ট ব্যবহারের প্রকৃত দৃশ্যের ছবি দিলে আস্থা বাড়ে। ছবির মান যত ভালো হবে, ক্রেতার আস্থাও তত বাড়বে, কারণ অস্পষ্ট বা কম আলোর ছবি দেখে ক্রেতা প্রোডাক্টের গুণগত মান নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। আমি যখন প্রথম স্টোর সাজিয়েছিলাম তখন একটা ভুল করেছিলাম, শুধু একটা সাধারণ মোবাইলে তোলা ছবি দিয়ে কাজ চালিয়েছিলাম, পরে দেখেছি একাধিক অ্যাঙ্গেলের ছবি, ভালো লাইটিং এবং জুম করে দেখার সুবিধা যুক্ত করার পর বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। যা থেকে বুঝেছিলাম ছবির গুরুত্ব আসলে কতটা বেশি।
আরো পড়ুনঃ মাইক্রো জব করে প্রতিদিন ইনকাম করার সহজ উপায়
প্রোডাক্টের প্রাইসিং সেট করার নিয়ম
প্রাইসিং সেকশনে গিয়ে প্রোডাক্টের মূল দাম লিখতে হয়, এবং চাইলে এর পাশে একটা Compare-at price ও দেওয়া যায় যা দেখিয়ে দেয় প্রোডাক্টে কত ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে। এই ফিচার ক্রেতাদের কাছে প্রোডাক্টটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে কারণ তারা একটা সাশ্রয়ের অনুভূতি পান এবং তাড়াতাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত হন। দাম নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রোডাক্টের উৎপাদন খরচ, প্যাকেজিং খরচ, শিপিং খরচ এবং প্রতিযোগী স্টোরগুলোর দামও বিবেচনা করা উচিত, কারণ এই হিসাব ছাড়া দাম নির্ধারণ করলে লাভের পরিমাণ সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয় না।
এই সেকশনেই Charge tax অপশন থাকে, যা চালু রাখলে নির্দিষ্ট অঞ্চলের ক্রেতাদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্স যুক্ত হয়ে যায় চেকআউটের সময়। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ থাকবে দাম নির্ধারণের আগে অন্তত তিন থেকে চারটা প্রতিযোগী স্টোরের দাম দেখে নেওয়া, যাতে নিজের প্রোডাক্টের দাম বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং খুব বেশি বা খুব কম দাম দেওয়ার ভুল এড়ানো যায়। অনেক সময় দেখা যায় খুব কম দাম দিলে ক্রেতা প্রোডাক্টের মান নিয়ে সন্দেহ করেন, আবার খুব বেশি দাম দিলে প্রতিযোগীর কাছে চলে যান, তাই একটা ভারসাম্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ইনভেন্টরি ও স্টক ম্যানেজমেন্ট করার পদ্ধতি
ইনভেন্টরি সেকশনে গিয়ে প্রোডাক্টের SKU নাম্বার এবং কত স্টক আছে তা উল্লেখ করতে হয়। SKU হলো একটা ইউনিক কোড যা প্রতিটা প্রোডাক্ট আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যা বড় ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক কাজে লাগে, বিশেষ করে যখন স্টোরে অনেক প্রোডাক্ট এবং ভ্যারিয়েন্ট থাকে তখন এই কোড ছাড়া হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। স্টক পরিমাণ সঠিকভাবে আপডেট রাখলে ওভারসেলিং বা কাস্টমারকে ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি কমে যায়, যা গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
এই সেকশনে Track quantity অপশন চালু রাখলে Shopify স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টক কমাতে থাকে যখন কোনো অর্ডার আসে, এবং স্টক শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Sold out দেখাতে শুরু করে, যা বিক্রেতাকে ম্যানুয়ালি স্টক চেক করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়। যারা ড্রপশিপিং মডেলে কাজ করেন, তারা চাইলে এই ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে সরবরাহকারীর স্টকের উপর নির্ভর করতে পারেন, কারণ সেই ক্ষেত্রে প্রকৃত স্টক তাদের নিজের হাতে থাকে না। নিয়মিত স্টক চেক করার অভ্যাস রাখলে কোনো প্রোডাক্ট হঠাৎ ফুরিয়ে গেলেও দ্রুত সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়ে যায়।
শিপিং তথ্য যুক্ত করার নিয়ম
শিপিং সেকশনে গিয়ে প্রোডাক্টের ওজন উল্লেখ করতে হয়, যা শিপিং খরচ হিসাব করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ কুরিয়ার কোম্পানিগুলো সাধারণত ওজনের ভিত্তিতেই চার্জ নির্ধারণ করে। যদি প্রোডাক্টটা ফিজিক্যাল কোনো পণ্য না হয়ে ডিজিটাল পণ্য হয়, তাহলে This is a physical product বক্সের টিক চিহ্ন তুলে দিলে শিপিং সংক্রান্ত কোনো তথ্য চাওয়া হবে না এবং প্রোডাক্টটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল ডেলিভারির জন্য সেটআপ হয়ে যাবে।
সঠিক ওজন উল্লেখ না করলে শিপিং খরচ হিসাবে ভুল হতে পারে, যা পরবর্তীতে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন ফ্রি শিপিং অফার দেওয়া হয় এবং প্রকৃত শিপিং খরচ ব্যবসায়ীকেই বহন করতে হয়। আমার পরিচিত একজন উদ্যোক্তা শুরুতে ওজন আন্দাজে লিখেছিলেন কোনো প্রকার মাপাজোখা না করেই, পরে দেখা গেছে আসল শিপিং খরচ তার হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে প্রতিটা অর্ডারেই তিনি কিছুটা লোকসান করছিলেন। তাই প্রোডাক্টের সঠিক ওজন মেপে নিয়ে তারপর তথ্য পূরণ করা ভালো, এবং প্যাকেজিং এর ওজনও হিসাবে রাখা উচিত যাতে চূড়ান্ত হিসাব নির্ভুল হয়।
আরো পড়ুনঃ মাইক্রো জব করে প্রতিদিন ইনকাম করার সহজ উপায়
ভ্যারিয়েন্ট যোগ করার পদ্ধতি
একই প্রোডাক্টের বিভিন্ন সাইজ, রঙ বা মডেল থাকলে ভ্যারিয়েন্ট অপশন ব্যবহার করতে হয়। প্রোডাক্ট পেজে Variants সেকশনে গিয়ে অপশন যুক্ত করা যায়, যেমন Size বা Color, এবং প্রতিটা অপশনের জন্য আলাদা মূল্য, ছবি বা ইনভেন্টরি সেট করা সম্ভব, যা একটা প্রোডাক্ট পেজের মধ্যেই একাধিক বৈচিত্র্য দেখানোর সুযোগ তৈরি করে। এই ফিচারের মাধ্যমে একই প্রোডাক্ট পেজে একাধিক ভ্যারিয়েশন দেখানো যায়, যা ক্রেতার জন্য পছন্দ করা সহজ করে দেয় এবং একই সাথে আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট পেজ তৈরির ঝামেলা থেকে বিক্রেতাকে মুক্তি দেয়।
ভ্যারিয়েন্ট ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করলে কাস্টমার সার্ভিসের কাজও কমে যায়, কারণ ক্রেতা নিজেই পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিতে পারেন এবং কোনো বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে না। তবে অতিরিক্ত ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত করলে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট জটিল হয়ে যেতে পারে, কারণ প্রতিটা ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদাভাবে স্টক ট্র্যাক করতে হয়, তাই শুরুতে সীমিত সংখ্যক ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে কাজ শুরু করা বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত, এবং পরে চাহিদা বুঝে ধীরে ধীরে নতুন ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত করা যেতে পারে।
কালেকশন এবং ট্যাগ ব্যবহারের নিয়ম
প্রোডাক্ট পেজের ডানপাশে Organization সেকশনে গিয়ে প্রোডাক্ট টাইপ, ভেন্ডর, কালেকশন এবং ট্যাগ যুক্ত করার সুযোগ থাকে। কালেকশন হলো একই ধরনের প্রোডাক্টের একটা গ্রুপ, যেমন গ্রীষ্মকালীন পোশাক বা ইলেকট্রনিক্স আইটেম, যা ক্রেতাদের প্রোডাক্ট খুঁজে পেতে সহজ করে দেয় এবং স্টোরের নেভিগেশন আরও সুসংগঠিত করে তোলে। ট্যাগ ব্যবহার করলে স্টোরের সার্চ ফাংশন আরও কার্যকরভাবে কাজ করে এবং সম্পর্কিত প্রোডাক্ট দেখানোর ক্ষেত্রেও সাহায্য করে, যা ক্রস সেলিং এর সুযোগ বাড়িয়ে দেয়।
নতুন স্টোর তৈরির শুরুতেই কয়েকটা মূল কালেকশন তৈরি করে নেওয়া ভালো, যাতে পরে প্রোডাক্ট যোগ করার সময় সহজেই সঠিক কালেকশনে যুক্ত করা যায় এবং স্টোরের গঠন শুরু থেকেই গোছানো থাকে। ট্যাগ ব্যবহারের সময় খুব বেশি জেনেরিক শব্দ না দিয়ে নির্দিষ্ট ও প্রাসঙ্গিক শব্দ ব্যবহার করলে স্টোরের অভ্যন্তরীণ সার্চ আরও নির্ভুল ফলাফল দেখাতে পারে, যেমন শুধু "পোশাক" না লিখে "গ্রীষ্মকালীন সুতির পোশাক" এর মতো নির্দিষ্ট ট্যাগ ব্যবহার করলে ক্রেতা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট আরও দ্রুত খুঁজে পান।
প্রোডাক্ট SEO অপটিমাইজ করার পদ্ধতি
প্রোডাক্ট পেজের নিচের দিকে Search engine listing প্রিভিউ অপশন থাকে, যেখানে Meta description লেখা যায়। এই মেটা ডেসক্রিপশনে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড এবং স্টোরের নাম উল্লেখ করলে গুগল সার্চে প্রোডাক্টটা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়, কারণ গুগল প্রায়ই এই মেটা ডেসক্রিপশনকেই সার্চ রেজাল্টে প্রিভিউ টেক্সট হিসেবে দেখিয়ে দেয়। এছাড়া URL handle অপশনে গিয়ে প্রোডাক্টের লিংকটাও ছোট ও কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ করে নেওয়া যায়, যা র্যাংকিং এর জন্য একটা অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করে।
প্রোডাক্টের ছবিতে Alt text যুক্ত করাও SEO এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ, কারণ এটা সার্চ ইঞ্জিনকে ছবির বিষয়বস্তু বুঝতে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্যও উপকারী, যা স্টোরের সামগ্রিক অ্যাক্সেসিবিলিটি বাড়িয়ে দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি যেসব প্রোডাক্ট পেজে সঠিকভাবে SEO অপটিমাইজেশন করা থাকে, মেটা ডেসক্রিপশন, অল্ট টেক্সট এবং সঠিক কিওয়ার্ড সবকিছু মিলিয়ে, সেগুলো গুগল সার্চে তুলনামূলক ভালো পজিশনে আসে এবং অর্গানিক ট্রাফিক বেশি পায়, যার ফলে বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরতা কমে যায়।
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে প্রোডাক্ট যোগ করার নিয়ম
কম্পিউটার ছাড়াও Shopify এর মোবাইল অ্যাপ দিয়ে প্রোডাক্ট যোগ করা সম্ভব, যা ব্যবসায়ীদের জন্য চলাফেরার মধ্যেও কাজ করার সুবিধা দেয়, বিশেষ করে যারা ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে ব্যবসা চালান তাদের জন্য এই সুবিধাটা অনেক বেশি কাজে আসে। অ্যাপ ওপেন করে নিচের প্লাস আইকনে ট্যাপ করে Add product অপশন বেছে নিতে হয়, তারপর টাইটেল ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে Save বাটনে ট্যাপ করলে প্রোডাক্টটা যুক্ত হয়ে যায়, এবং পুরো প্রক্রিয়াটা কম্পিউটারের মতোই কিন্তু একটু সহজতর ইন্টারফেসে সম্পন্ন হয়।
মোবাইল দিয়ে কাজ করার একটা বড় সুবিধা হলো প্রোডাক্টের বারকোড সরাসরি মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে স্কান করে ইনভেন্টরিতে যুক্ত করা যায়, যা ম্যানুয়ালি টাইপ করার ঝামেলা সম্পূর্ণ দূর করে দেয়। যাদের ফিজিক্যাল দোকান থেকে প্রোডাক্ট সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি করতে হয়, তাদের জন্য এই ফিচারটা সময় অনেকটাই বাঁচিয়ে দেয়, কারণ একসাথে অনেক প্রোডাক্ট স্কান করে দ্রুত ইনভেন্টরিতে যুক্ত করা সম্ভব হয়, যা বড় পরিসরে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়ক হয়ে ওঠে।
CSV ফাইল দিয়ে একাধিক প্রোডাক্ট যোগ করার পদ্ধতি
একসাথে অনেক প্রোডাক্ট যুক্ত করতে চাইলে একটা একটা করে ম্যানুয়ালি যুক্ত করার বদলে CSV ফাইল ইমপোর্ট করা অনেক বেশি কার্যকর একটা পদ্ধতি, বিশেষ করে যখন স্টোরে শত শত প্রোডাক্ট যুক্ত করতে হয়। Products পেজে গিয়ে Import অপশনে ক্লিক করে CSV ফাইল আপলোড করতে হয়, যেখানে প্রোডাক্টের টাইটেল, দাম, বিবরণ এবং ছবির লিংক সবকিছু একসাথে দেওয়া থাকে, এবং Shopify স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য পড়ে প্রতিটা প্রোডাক্ট তৈরি করে নেয়।
CSV ফাইল আপলোড করার আগে ফরম্যাট ঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ ছোট কোনো ভুল, যেমন কলামের নাম ভুল দেওয়া বা প্রয়োজনীয় তথ্য খালি রাখা, পুরো ইমপোর্ট প্রক্রিয়া ব্যর্থ করে দিতে পারে। যারা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে Shopify তে স্টোর স্থানান্তর করছেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি সময় বাঁচানোর পাশাপাশি ভুল কমাতেও সাহায্য করে, কারণ ম্যানুয়ালি সবগুলো তথ্য টাইপ করার বদলে একবারেই সব তথ্য নির্ভুলভাবে ইমপোর্ট করা সম্ভব হয়।
প্রোডাক্ট পাবলিশ করার আগে যা যাচাই করতে হবে
প্রোডাক্ট সেভ করার আগে Preview অপশনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া উচিত প্রোডাক্ট পেজটা আসলে কেমন দেখাচ্ছে ক্রেতার দৃষ্টিকোণ থেকে। এই ধাপে ছবি, দাম, বিবরণ সবকিছু সঠিকভাবে দেখাচ্ছে কিনা যাচাই করা জরুরি, কারণ কোনো তথ্য ভুল থাকলে পরে ক্রেতার আস্থা নষ্ট হতে পারে এবং সেই ভুল ঠিক করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হতে পারে।
পাবলিশ করার আগে প্রোডাক্টের Sales channel ঠিকমতো সিলেক্ট করা আছে কিনা সেটাও দেখে নেওয়া উচিত, কারণ কোনো চ্যানেল থেকে প্রোডাক্ট বাদ পড়ে গেলে সেই চ্যানেলে প্রোডাক্টটা দেখা যাবে না, এমনকি প্রোডাক্ট স্টোরে থাকলেও। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি অনেক নতুন বিক্রেতা এই ধাপটা ভুলে যান, ফলে প্রোডাক্ট স্টোরে থাকলেও কাস্টমার খুঁজে পান না, এবং পরে বিভ্রান্ত হয়ে যান কেন প্রোডাক্টটা সাইটে দেখা যাচ্ছে না, তাই পাবলিশ করার আগে এই ছোট ধাপটাও মনোযোগ দিয়ে যাচাই করা দরকার।
সতর্কতা
প্রোডাক্ট যোগ করার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকে সরবরাহকারীর দেওয়া বিবরণ সরাসরি কপি করে পেস্ট করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে কপিরাইট সমস্যা এবং স্টোরের মান কমিয়ে দেওয়ার কারণ হতে পারে, কারণ একই বিবরণ শত শত অন্য স্টোরেও থাকতে পারে। তাই সবসময় নিজের ভাষায় ডেসক্রিপশন লেখা উচিত যাতে স্টোরটা ইউনিক ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় এবং সার্চ ইঞ্জিনেও আলাদাভাবে মূল্যায়িত হয়।
আরেকটা বিষয় হলো দাম নির্ধারণের সময় শুধু প্রোডাক্টের খরচ হিসাব করলেই হবে না, শিপিং, ট্যাক্স এবং প্ল্যাটফর্ম ফি সবকিছু মাথায় রেখে দাম ঠিক করতে হবে, নাহলে বিক্রি হলেও লাভ থাকবে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ভুল তথ্য বা অস্পষ্ট ছবি দিয়ে প্রোডাক্ট পাবলিশ করাও এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে গ্রাহকদের রিটার্ন বা অভিযোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা স্টোরের রেটিং ও সুনামের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরো পড়ুনঃ মাইক্রো জব করে প্রতিদিন ইনকাম করার সহজ উপায়
লেখকের মন্তব্য
Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ সম্পর্কে আশা করি আপনাদের একটা সম্পূর্ণ ধারণা দিতে পেরেছি। শুরুতে প্রক্রিয়াটা একটু জটিল মনে হলেও কয়েকটা প্রোডাক্ট যোগ করার পর পুরো কাজটা সহজ হয়ে যায়। কাজ করতে করতে কিছুদিনের মধ্যেই পুরো কাজটা স্বাভাবিক একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। সবগুলো তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করলে স্টোরের পেশাদারিত্ব বাড়ে এবং ক্রেতাদের আস্থাও বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত বিক্রি বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান হিসেবে কাজ করে।
আমি যখন প্রথম স্টোর সাজানো শুরু করেছিলাম তখন প্রতিটা ধাপেই অনেক সময় নিতাম এবং প্রায়ই ভাবতাম এত খুঁটিনাটি বিষয়ে এত সময় দেওয়া কি আসলেই প্রয়োজন, কিন্তু এখন পেছনে ফিরে দেখলে বুঝি যে শুরুর সেই ধৈর্যটাই পরবর্তীতে অনেক উপকারে এসেছিল এবং স্টোরের মান বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল। নতুন উদ্যোক্তাদের বলব তাড়াহুড়ো না করে সবগুলো ধাপ মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করুন। ভালো প্রোডাক্ট পেজ তৈরি করতে যে সময় ব্যয় হবে তা পরে বিক্রির মাধ্যমেই পুষিয়ে যাওয়া অসম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে একটা বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড গড়ে তোলার পথে এই পরিশ্রমই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। আপনার যদি Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে মন্তব্য করতে পারেন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url